দাঁত মাজার মতোই জরুরি নিয়মিত ‘দাত ফ্লসিং’ করা

স্কুল-কলেজে গণিত পরীক্ষার আগে সবসময় দুই-তিন দিনের একটা লম্বা ছুটি থাকত। কারণ গণিত হলো ভীতির নাম! টানা দুই-তিন দিন ধরে গণিত অনুশীলন করে পরীক্ষার হলে গেলেও, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া মাত্রই মনে হতে শুরু করে, সব সূত্র হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে যেন। জিনিয়া’র অবশ্য এই সকল সমস্যা একেবারেই ছিল না। দুই-তিন দিনের লম্বা ছুটি পার করে গণিত পরীক্ষার ঠিক আগের দিন সন্ধ্যা নাগাদ ফুরফুরে মেজাজে গণিত বই নিয়ে বসা হতো তার। কয়েক ঘন্টার টানা অনুশীলনই যথেষ্ট ছিল তার জন্য।

ফলাফল বের হলে বরাবরই দেখা যেত গণিতে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে বসে আছেন তিনি। প্রথম সারির ছাত্রী, গণিতে দূর্দান্ত পারদর্শিতা এবং গণিতের প্রতি ভালোবাসার জন্যেই সেই ছেলেবেলা থেকেই জিনিয়া চাইতেন একজন ইঞ্জিনিয়ার হবার। স্বপ্ন দেখতেন বুয়েটে পড়ার। কিন্তু ভবিষ্যৎ সময় তার জন্য পরিকল্পনা করে রেখেছিল একেবারেই ভিন্ন কিছু। বাবা ডা. এম এ কাইয়ুম এবং মা মাহমুদা কাইয়ুম এর বড় সন্তান জিনিয়া মাহমুদা কাইয়ুম বর্তমানে একজন দন্ত চিকিৎসক। প্রশ্ন জাগতেই পারে, গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান ভালোবাসতেন যিনি তিনি কীভাবে একজন দন্ত চিকিৎসক হয়ে গেলেন। দাতের যত্নে রইলো তার কিছু দামি পরামর্শ:

ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে প্রতিদিন। সুস্থ দাঁতের জন্য এবং দাঁতকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সবচাইতে বেশী প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম। দুধ এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন দুধ পান করা যে জন্য প্রয়োজনীয়।

কোমল পানীয় পান করতে সবাই পছন্দ করলেও এটা দাঁতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পানীয়। এই সকল পানীয়তে থাকে উচ্চমাত্রায় ফসফরাস। যা দাঁতে দীর্ঘস্থায়ি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয় কোমল পানীয়। বিশেষ করে, দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে অতিরিক্ত কোমল পানীয় পানের ফলে।

নিয়মিত দুই বেলা দাঁত মাজলেও অনেকেই ফ্লসিং এর ব্যাপারে জানেন না এবং করেন না। দাঁত মাজার মতোই জরুরি ফ্লসিং করা। দাঁতের সঠিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে নিয়মিত ফ্লসিং এর কোন বিকল্প নেই। কারণ ব্রাশের সাহায্যে দাঁত মাজার পরেও দুই দাঁতের মাঝে কিছু খাদ্যকণা রয়ে যায়। যা শুধু ফ্লসিং এর সাহায্যেই পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।

ভালো কোন টাং ক্লিনার দিয়ে প্রতিদিন জিহ্বা পরিষ্কার করতে হবে। এতে করে জিহ্বাতে বসবাস করা অসংখ্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করা সম্ভব। এই সকল ব্যাকটেরিয়া মুখে দূর্গন্ধ তৈরি করে এবং দাঁতের ক্ষতি করে থাকে।

মুখ ও দাঁতের সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য লিস্টারিন মাউথওয়াশ সবচাইতে কার্যকরি। মাউথওয়াশে থাকা ক্লোরিন ডাইঅক্সাইড মুখের ভেতরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে এবং ভালো ব্যাকটেরিয়ার সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে করে দাঁত শক্ত ও সুস্থ থাকে। মাউথওয়াশ খুব ঘনঘন ব্যবহার না করলেও, ভারী খাওয়া-দাওয়ার পর ব্যবহার করা উচিৎ।

প্রতি বছর অন্ততপক্ষে দুইবার দন্ত চিকিৎসক এর সাহায্যে দাঁতের চেকআপ করাতে হবে। সকলের মাঝে প্রবণতা থাকে, দাঁতের গুরুতর সমস্যা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত দাঁতের ডাক্তারের কাছে না যাওয়া। যার ফলে দাঁতের সমস্যা নিয়ে বেশী কষ্ট ভোগ করতে হয়। নিয়মিত দন্ত চিকিৎসক এর কাছে দাঁত দেখালে এমন সমস্যা দেখা দেবে না।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>