দিনে কমপক্ষে ৩ লিটার পানি না খেলে কি সমস্যা হতে পারে, জানেন?

আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে জল। খাবার ছাড়াও আমরা কয়েকদিন বেঁচে যেতে পারি। কিন্তু জল ছাড়া, কোনও মতেই সম্ভব নয়। তাই তো চিকিৎসকেরা প্রতিদিন কম করে ৩-৪ লিটার জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ এমনটা না করলে ধীরে ধীরে শরীরের সচলতা কমে যায়, যে কারণে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে নানান ধরনের সমস্যা। যেমন, কনস্টিপেশনের মতো রোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে: বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ জল না খেলে দেহের অন্দরে ধীরে ধীরে এমন পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আসলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খেলে শরীরের অন্দরে জমতে থাকা বর্জ্য পদার্থ ডায়জেস্টিভ সিস্টেম থেকে ঠিক মতো বেরিয়ে যাওয়া সুযোগ পায়। ফলে পটির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে কনস্টিপেশনের মতো রোগ ঘারে চেপে বসার সুযোগই পায় না।

ক্লান্তি বেড়ে যায়: আজকাল অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পরছেন নাকি? তাহলে একবার খেয়াল করে দেখুন তো ঠিক মতো জল খাচ্ছেন কিনা। কারণ শরীরের জলের চাহিদা না মিটলে কোষেদের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমে দেহের সচলতাও। প্রসঙ্গত, জল কম খেলে আরেকটি ঘটনা ঘটে, যে কারণে ক্লান্তি ভাব আরও বেড়ে যায়। বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে দেহের অন্দরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে শরীরকে বেশি মাত্রায় কাজ করতে হয়। কারণ এমনটা না করলে দেহের দৈনন্দিন যা কাজ, তা ঠিক মতো হওয়ার সুযোগ পায় না। আর বেশি বেশি কাজ করার কারণে স্বাভাবিকভাবেই শরীর দুর্বল হয়ে পরে। সেই সঙ্গে বাড়ে ক্লান্তিও।  ত্বকের সৌন্দর্য কমে যায়: কম পরিমাণে জল খেলে ত্বকের অন্দরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যাওয়ার সুয়োগ পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে জলের অভাবের কারণে ধীরে ধীরে কোলাজেনের মাত্রাও যেমন কমে, তেমনি ইলাস্টিক টিস্যুরা জলের অভাবে ক্রমাগত ভাঙতে থাকায় বলিরেখা প্রকাশ পেতে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে বলিরেখা যত প্রকাশ পায়, তত ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে। তাই তো স্কিনকে দীর্ঘকাল সুন্দর এবং প্রাণচ্ছ্বল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করতে ভুলবেন না যেন!  ব্রেন পাওয়ার মারাত্মক কমে যায়: মানব মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশই জল দিয়ে তৈরি। তাই তো দিনে কম করে ২-৩ লিটার জল যদি খেতে না পারেন, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! কারণ সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে কগনিটিভ পাওয়ার কমতে শুরু করে, যে কারণে স্মৃতিশক্তি তো কমেই। সেই সঙ্গে বুদ্ধি এবং মনযোগ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই ব্রেনকে যদি বহুদিন অ্যাকটিভ রাখতে চান, তাহলে ঠিক ঠিক পরিমাণে জল পান করতে ভুলবেন না যেন!  চোট-আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে: বছরের পর বছর ধরে হওয়া নানা গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট পরিমাণে জল না খেলে জয়েন্টের সচলতা যেমন কমে, তেমনি বিভিন্ন অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সার্বিকভাবে শরীরের সচলচতা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চোট-আঘাত লাগার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, জল অনেকাংশেই লুব্রিকেন্টের কাজ করে, যা জয়েন্টের কর্মক্ষমতা বজায় রাখে। তাই তো দেহের অন্দরে জলের প্রবেশ কমলে স্বাভাবিকভাবেই জয়েন্টের গতিবিধিতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে।  ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়া থেমে যায়: আপনি কি নতুন বছরে ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর? তাহলে ভুলেও কম পরিমাণে জল পান করবেন না যেন! আসলে নির্দিষ্টি পরিমাণে জল পান করলে পেট অনেকক্ষণ ধরে ভরা থাকে। ফলে কাজের ফাঁকে বারে বারে চিপস বা ঐ জাতীয় ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছা একেবারে চলে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে ফ্লইড রিটেনশন কমে যাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে থাকে না বললেই চলে। ৭. মাসল ক্র্যাম্প হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে: সব ঠিকঠাকই চলছিল হঠাৎ করে পায়ের পেশীতে এমন টান লাগলো যে ব্যাথার চোটে আবস্থা বেহাল। এমন পরিস্থিতির শিকার প্রায়শই আমাদের হতে হয়। আর এমনটা কেন হয় জানা আছে? বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট পরিমাণে জল না পান করলে শরীরের অন্দরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের যে ভারসাম্য তা বিগড়ে যায়। যে কারণে এমন ধরনের ক্র্যাম্প লাগার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

সবাই এখন যা পড়ছে :-  লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ!  মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক:  ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে।  ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।  ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর । অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।  ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।  ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।  ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।  ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।  ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না।  ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

সকাল বেলায় পান্তা ভাত খান ৭ দিন, ফলাফল জানলে চমকে যাবেন!  ৭ দিন পান্তা ভাত খান- বাঙালী মাত্রেই পান্তাভাত প্রেমী। পান্তাভাত খেয়ে দিবানিদ্রা দেয়নি এরকম বাঙালি হয়তো অনেক কষ্টে খুঁজে পাওয়া যাবে। চানাচুর, কাঁচালঙ্কা , পেঁয়াজ সহযোগে পান্তাভাত হল অমৃত। আসলে পান্তাভাত হল সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। রাতের খাবারের জন্য রান্না করা ভাত বেঁচে গেলে সংরক্ষণের জন্য এই ভাতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল দিয়ে প্রায় এক রাত ডুবিয়ে রাখলেই তা পান্তায় পরিণত হয়। ভাত পুরোটাই শর্করা। ভাতে জল দিয়ে রাখলে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া বা ইস্ট এই শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায় (pH কমে) তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।  ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়াও ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম; যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম। পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভালো উৎস। পান্তাভাত শর্করাসমৃদ্ধ জলীয় খাবার। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখে। জলীয় খাবার বলে শরীরের জলের অভাব মেটায় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়, কারণ এটি ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবার। মানবদেহের জন্য উপকারী বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে ওঠে। পেটের রোগ ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ভাতে পেটের পীড়া ভালো হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীবতা বিরাজ করে। পাশাপাশি শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>