এই পাঁচটি নিয়ম মেনে চললে কোনও দিন মোটা হবেন না!

গ্লোবাল বার্ডেন অব ডাজিজ স্টাডি, ২০১৩-তেই স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছিল কিভাবে অবেসিটির কারণে আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একতটা বড় অংশ ধীরে ধীরে নানাবিধ মারণ রোগের কবলে পরছে। তবু তার পর থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি জনগনের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর সামান্য প্রয়াসটুকুও করা হয়নি, যে কারণে আজ পরিস্থিতি আরও ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কয়েকটি সরকারি এবং বেসরকারি রিপোর্ট ঘেঁটে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা বাস্তবিকই ভয়ঙ্কর। রিপোর্ট অনুসারে ভারতের মহিলা নাগকিরদের মধ্যে প্রায় ২১ শতাংশ ওবেসিটির শিকার। পুরুষদের মধ্যে এই সংখ্যাটা আরও বেশি। এখানেই শেষ নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে ওবেস বাচ্চাদের সংখ্যার বিচারে আমাদের দেশের স্থান দ্বিতীয় স্থানে, চিনের পরেই। এমন পরিস্থিতিতে যদি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী দিনে হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মতো মারণ রোগের প্রকোপ যে আরও বাড়বে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন হল, ওজনকে বিপদ সীমার নিচে রাখার উপায় কী? এক্ষেত্রে কতগুলি নিয়ম একেবারে মন দিয়ে মেনে চলতে হবে। তাহলেই দেখবেন ওজন বাড়ার নামও নেবে না। আর ওজন না বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের পথও প্রশস্ত হবে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে নিয়মগুলি মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলি হল…

হোল গ্রেন খাবার বেশি করে খেতে হবে: প্রসেসড সিরিয়ালের পরিবর্তে খাওয়া শুরু করুন বাজরা, রাগি এবং জোয়ারের মতো খাবার। যত বেশি করে এমন ধরনের খাবার খাবেন, তত শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হবে। সেই সঙ্গে দেহের অন্দরে ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমবে। সেই সঙ্গে শরীরে ক্যালরি প্রবেশের মাত্রাও কমতে শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কমবে।

সবজি এবং ফল খেতে হবে: দিনে তিনবার নিয়ম করে সবজি খেতে হবে। সেই সঙ্গে যেন অবশ্যই থাকে ২ টো করে ফল। এই নিয়ম মেনে চললে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর হবে, তেমনি ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে শরীরের কর্মক্ষমতা তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও আর থাকবে না।

প্রতিদিন ডাল খেতে হবে: এই ধরনের খাবার হল প্রোটিন সমৃদ্ধ। ফলে লাঞ্চে বা ডিনারে এক বাটি করে ডাল খেলে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকবে। আর পেট ভরা থাকলে বারে বারে অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে। সেই সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজম বৃদ্ধির আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

চিনির পরিমাণ কমাতে হবে: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা সহজ ফর্মুলা আছে। কী সেই ফর্মুলা? শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে তাল রেখে যদি ক্যালরি গ্রহণ করা যায়, তাহলে ওজন বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। তাই তো চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। কারণ বেশি মাত্রায় চিনি খেলে শরীরে অকারণে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর ক্যালরির মাত্রা বাড়লে যে ওজন বাড়ারও সম্ভাবনা বাড়ে, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না।

নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে: ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে প্রতিদিন অল্প-বিস্তর শরীরচর্চা করতেই হবে। না হলে কিন্তু ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা একেবারেই সম্ভব হবে না। তবে একান্তই যদি এক্সারসাইজ করার সময় করে উঠতে না পারেন, তাহলে নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করবেন। এমনটা করলেও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেই সঙ্গে মিলবে আরও অনেক উপকারিতাও।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

খুব বেশি পর্ন দেখেন? জানেন কী ক্ষতি করছেন নিজের!

ব্যস্ত জীবনের মধ্যে পর্ন দেখার জন্য অনেকেই সময় বের করে নেন। অনেকেই দিনান্তে পর্ন দেখেন সাময়িক আনন্দলাভের আশায়। কিন্তু জানেন কি, বেশি মাত্রায় পর্ন দর্শন কতটা সর্বনাশ করছে আপনার? সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত পর্ন দেখেন, তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। পৃথিবীর একাধিক দেশের পুরুষ, নারীর উপর এই সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে ভয়ঙ্কর সব সমস্যার জন্ম দিচ্ছে এই অভ্যাস। মানসিক বিকৃতির জন্ম দেয়। অতিরিক্ত পর্ন মস্তিস্কের উপর চাপ ফেলে। স্বাভাবিক বিচক্ষণতা লুপ্ত হতে থাকে। বাস্তব থেকে দূরে সরিয়ে দেয় মানুষকে। বাস্তব এবং অবাস্তবের মধ্যে এক অদ্ভুত গুলিয়ে দেওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।

ক্রমশ নিজের ব্যক্তিগত আবেগ, ইমোশনের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে। হঠাৎ রেগে যাওয়াও এক অন্যতম লক্ষণ। সর্বোপরি একটা সুস্থ জীবন থেকে আপনাকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে আপনার পর্ন-দর্শন। শুধু জীবনসঙ্গী নয়, সন্তানদের থেকেও দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে আপনাকে। কারণ অতিরিক্ত পর্ন দেখলে পৃথিবীর স্বাভাবিক, নিষ্পাপ আনন্দ আপনি উপভোগ করতেই ভুলে যাবেন ধীরে ধীরে। ব্যক্তিগত জীবন অসুখী করে তোলে। সঙ্গীকে সুখী করা বা সঙ্গীর থেকে আনন্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় আপনার এই অভ্যাস।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>