মেরুদণ্ডে আঘাত পেলে যা করবেন ! জেনে নিন সঠিক পরামর্শ

দুর্ঘটনার ফলে কিছু মানুষ অকালে জীবন হারাচ্ছেন, কেউ আবার পঙ্গুত্ববরণ করছেন। কেউ যদি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে থাকে তাহলে তাকে সোজা করে শুইয়ে দিন এবং দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, পাশাপাশি রোগীর আঘাতের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাধারণত যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে :

⇒হাত ও পায়ের অনুভূতি না থাকতে পারে।

⇒যদি আঘাত মেরুদণ্ডের সারভাইক্যাল স্পাইনের উপর দিকে সি২-৩ অথবা সি৩-৪ লেভেলে কম্প্রেশন ইনজুরি হয় সেক্ষেত্রে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা লাগতে পারে। কারণ এ জায়গা থেকে আমাদের রেসপিরেটরি মাংসপেশিগুলোর নার্ভ সাপ্লাই হয়ে থাকে সে জন্য রোগীকে খুবই সাবধানতার সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।

⇒কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারভাইক্যাল স্পাইনের বা ঘাড়ের জন্য প্যারাফ্লেজিয়া বা চার হাত পা অবশ হয়ে যেতে পারে এবং লম্বোর স্পাইন বা কোমরের জন্য দুই পা অবশ হয়ে যেতে পারে।

⇒রোগী প্রস্রাব ও পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। এসব ক্ষেত্রে রোগীর ক্ষতি বা আঘাত পরিমাণ নির্ণয় করে কখনো স্কেলিটাল বা টং ট্রাকশন কখনো পেলভিক ট্রাকশন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে আবার আগের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনার জন্য ওষুধের পাশাপাশি দেওয়া যেতে পারে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। এই চিকিৎসার মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে পুনর্বাসন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিয়মিত দিনে তিন-চার বার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে ২ থেকে ৬ মাস।

এক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীকে পুনর্বাসনের জন্য একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করে থাকেন। যার মধ্যে : – ম্যানুয়াল থেরাপি : এক্সারসাইজ, প্রগ্রেসিভ কন্ডিশনাল এক্সারসাইজ, পারালাল বার এক্সারসাইজ, গেট ট্রেনিং বা গেট রি-এডুকেশন এক্সারসাইজ,  ইলেকট্রো থেরাপি বা ইলেকট্রিক্যাল ইস্টিমুলেশন থেরাপি, অকুপেশনাল ট্রেনিং ইত্যাদি। তাই এসব ক্ষেত্রে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। প্রাথমিক অবস্থায় সমাধান না করতে পারলে পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ে। কারণ প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

খুব বেশি পর্ন দেখেন? জানেন কী ক্ষতি করছেন নিজের!

ব্যস্ত জীবনের মধ্যে পর্ন দেখার জন্য অনেকেই সময় বের করে নেন। অনেকেই দিনান্তে পর্ন দেখেন সাময়িক আনন্দলাভের আশায়। কিন্তু জানেন কি, বেশি মাত্রায় পর্ন দর্শন কতটা সর্বনাশ করছে আপনার? সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত পর্ন দেখেন, তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। পৃথিবীর একাধিক দেশের পুরুষ, নারীর উপর এই সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে ভয়ঙ্কর সব সমস্যার জন্ম দিচ্ছে এই অভ্যাস।

মানসিক বিকৃতির জন্ম দেয়। অতিরিক্ত পর্ন মস্তিস্কের উপর চাপ ফেলে। স্বাভাবিক বিচক্ষণতা লুপ্ত হতে থাকে। বাস্তব থেকে দূরে সরিয়ে দেয় মানুষকে। বাস্তব এবং অবাস্তবের মধ্যে এক অদ্ভুত গুলিয়ে দেওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।

ক্রমশ নিজের ব্যক্তিগত আবেগ, ইমোশনের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে। হঠাৎ রেগে যাওয়াও এক অন্যতম লক্ষণ। সর্বোপরি একটা সুস্থ জীবন থেকে আপনাকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে আপনার পর্ন-দর্শন। শুধু জীবনসঙ্গী নয়, সন্তানদের থেকেও দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে আপনাকে। কারণ অতিরিক্ত পর্ন দেখলে পৃথিবীর স্বাভাবিক, নিষ্পাপ আনন্দ আপনি উপভোগ করতেই ভুলে যাবেন ধীরে ধীরে। ব্যক্তিগত জীবন অসুখী করে তোলে। সঙ্গীকে সুখী করা বা সঙ্গীর থেকে আনন্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় আপনার এই অভ্যাস।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>