থাইরয়েড সমস্যার নীরব কিছু লক্ষণ, যা এড়িয়ে গেলেই বাড়বে বিপদ !

গলায় অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড বিপাক ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে। থাইরয়েড সমস্যার উপসর্গ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্পষ্ট থাকে, কিন্তু আপনি যদি এ প্রতিবেদনে আলোচিত উপসর্গের এক বা একাধিক উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করেন, তাহলে আপনার হরমোনের মাত্রা সম্পর্কে জানতে সাধারণ রক্ত পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

ঘুমের পরিবর্তন: আপনি সবসময় ভালো নিদ্রাকারী ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে অনিদ্রা সমস্যা শুরু হয়েছে- এটি থাইরয়েড সমস্যার সংকেত হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট হোসাইন গারিব বলেন, ‘ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড কিছু হরমোন (যেমন- ট্রাইআইয়োডোথাইরনাইন যা টি৩ নামে পরিচিত এবং থাইরক্সাইন যা টি৪ নামে পরিচিত) অত্যধিক পরিমাণে নিঃসরণ করে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে এবং ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগের দিকে ধাবিত করে।’

অন্যদিকে, সারারাত ঘুমানোর পর আপনি যদি ক্লান্তি অনুভব করেন অথবা আপনার যদি স্বাভাবিক ঘুমের তুলনায় অধিক ঘুমের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আপনার সম্ভবত আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড আছে- যেখানে আপনার শরীর পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদন করতে পারে না। তবে অন্যান্য আরো মেডিক্যাল কারণে আপনি সবসময় ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।

হঠাৎ উদ্বেগ: আপনি কখনো উদ্বেগের সঙ্গে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু হঠাৎ করে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ বা অস্থিরতা অনুভব করা শুরু করেন- তাহলে আপনার থাইরয়েড হাইপারঅ্যাকটিভ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির মাউন্ট সিনাই রুজভেল্ট হসপিটালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট আশিতা গুপ্ত বলেন, অত্যধিক হরমোন প্রায়ক্ষেত্রে রোগীকে নার্ভাস বা স্নায়বিক দুর্বলগ্রস্ত কিংবা উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, সেখানে অত্যধিক ব্রেইন স্টিমিউল্যান্ট বা মস্তিষ্ক উত্তেজক আছে যা আপনি কোনো বিষয়ে ভালো অনুভব না করলে তাকে চেতিয়ে তোলে।

 

চুল পাতলা হওয়া: চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে ভ্রু, হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যার উপসর্গসমূহের একটি। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড বা ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড আপনার চুলের বিকাশ চক্রে বিচ্যুতি ঘটায়।’ সাধারণত সামান্য পরিমাণ চুল বিশ্রাম নেয়, কিন্তু থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্য হারালে অত্যধিক পরিমাণ চুল একই সময়ে বিশ্রাম নেয়- যে কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়।

অপ্রত্যাশিত সময়ে ঘামানো: হাইপারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের একটি কমন উপসর্গ হচ্ছে, পরিশ্রম না করেও অত্যধিক ঘামানো। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘থাইরয়েড শরীরের শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাভাবিক হরমোন মাত্রার চেয়ে উচ্চ হরমোন মাত্রার মানে হল আপনার মেটাবলিজম অত্যধিক সক্রিয় হচ্ছে, যে কারণে লোকেরা মাত্রাতিরিক্ত গরম অনুভব করে।’

অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি: ওজন বৃদ্ধির কারণে আপনার জিন্স প্যান্ট খুব টাইট হয়ে গেল, কিন্তু আপনি জোর দিয়ে বলছেন যে আপনি আপনার খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামাভ্যাস পরিবর্তন করেননি, তাহলে এর জন্য আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড দায়ী হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডা. হোসাইন গারিব বলেন, ‘হরমোনের স্বল্পতা মেটাবলিজম এবং ক্যালরি পোড়ানো হ্রাস করে, তাই ধীরে ধীরে অপ্রত্যাশিতভাবে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে।’

ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ওয়ার্কআউটে কোনো পরিবর্তন ছাড়া আপনি যদি হঠাৎ এমন ছোট সাইজের কাপড় পরতে সমর্থ হন যা কয়েক বছর ধরে আপনার জন্য ফিট ছিল না, তাহলে আপনার ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড থাকতে পারে যা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, লোকেরা প্রায়সময় রিপোর্ট করে যে তাদের ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং তারা প্রচুর পরিমাণে খায়, কিন্তু তাদের ওজন বাড়ার পরিবর্তে কমে যাচ্ছে।

অনিয়মিত পিরিয়ড: পিরিয়ড ঘন হলে, দীর্ঘদিন থাকলে অথবা খুব কাছাকাছি সময়ে দুই বা তার অধিক বার পিরিয়ড হলে বোঝা যেতে পারে যে, থাইরয়েড যথেষ্ট হরমোন উৎপাদন করছে না। আবার ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের কারণে পিরিয়ড হালকা হতে পারে বা দীর্ঘদিন পর হতে পারে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা।

হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>