যেসব খাবারে স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মেধাশক্তি করে মজবুত

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে নানান রকম কৌশল ও চর্চার কথা বলা হয়। তবে শুধু অনুশীলনের মাধ্যমেই নয়, বিভিন্ন খাবারের উপাদানও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর খাবার সম্পর্কে পুষ্টিবিজ্ঞানিদের করা বিভিন্ন গবেষণার প্রেক্ষিতে পাওয়া তথ্যানুসারে বেশ কয়েকটি খাবারের নাম এখানে দেওয়া হল।

ডার্ক চকলেট: এই চকলেটে ৭০ শতাংশ কোকোয়া থাকে। এটা ধমনীর কার্যকারিতা উন্নত করে মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চকলেট মন মেজাজ ভালো রাখে, দুঃখ ভোলাতে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। তাই নিজেদের ইচ্ছাপূরণ ও উপকারিতা দুই বিষয় খেয়াল রেখেই চকলেট খেতে পারেন।

বাদাম: আমেরিকান জার্নাল অব এপিডেমিয়োলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায় ভিটামিন ই স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া কমাতে সাহায্য করে, বিশেষত বৃদ্ধ বয়সে। বাদাম যেমন- কাঠবাদাম ও আখরোট ভিটামিন ই’য়ের ভালো উৎস। তাই বিকালের নাস্তার একটি অংশ হিসেবে বাদামকে বেছে নিতে পারেন। মানব শরীরে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপন্ন হতে পারে না। তাই খাবারের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে হয়। তৈলাক্ত মাছ যেমন- স্যামন, সারডিন-সহ মিঠাপানি ও সামদ্রিক মাছ থেকে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করতে পারেন।

এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত মাছ খায় তাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাসের গতি বয়সের তুলনায় অনেক কম। এরা ইপিএ এবং ডিএইচএ নামক ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। ডিএইচএ’র মাত্রা কম থাকা আলৎঝাইমার’স রোগ এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে খাবার তালিকায় তৈলাক্ত মাছ রাখুন।

গোটা শস্য: শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো মস্তিষ্ক-ও শক্তি ছাড়া ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। মস্তিষ্কে ধীরে শক্তি পৌঁছাতে গ্লুকোজ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে গোটা-শস্য যেমন- ‘বাদামি’ শস্যদানা, রুটি, ভাত ও পাস্তা যা রক্তে ধীরে গ্লুকোজ সরবারহ করে। ফলে সারাদিন আপনাকে মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ ও দক্ষ রাখতে সহায়তা করে।

বিট: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সলেসন্যাল সায়েন্স সেন্টার’য়ের গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিদিন বিটের রস খাওয়ানো হলে তা মস্তিষ্কের স্মৃতিভ্রংশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এলাকায় রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিটের রস খেতে না চাইলে সালাদ অথবা স্যান্ডুইচে বিট খাতে পারেন।

ব্রকলি: ২০১৫ সালের আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন কে স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এই সবজি ভিটামিন কে’তে ভরপুর। গবেষকরা দেখেছেন, ব্রকলি গ্লুকোসিনোলেটস’য়ের ভালো উৎস যা নিউরোট্রান্সমিটার, অ্যাসেটাইলকোলাইন ভেঙে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে সঠিক কার্যকারিতা পরিচালনা করতে ও আমাদের স্মৃতি তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।

স্ট্রবেরি: ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী সপ্তাহে অন্তত এক কাপ স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরি খান তাদের মানসিক পতন যারা খান না তাদের তুলনায় আড়াই বছর ধীর হয়।

টমেটো: কয়েকটি গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে, টমেটোতে লাইকোপেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা কোষের রেডিকল ক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফলে স্মৃতিভ্রংশ বা স্মৃতির অবক্ষয় হ্রাস পায়। তাই প্রতিদিন সালাদে হিসেবে টমেটো খান।

ডিম: ডিমের কুসুম কোলিন নামক অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর যা কোষে সংকেত পৌঁছাতে সাহায্য করে। আর ‘শর্ট-টার্ম মেমোরি’ স্বল্প সময়ের স্মৃতি উন্নয়নে সাহায্য করে। তাবহুল এই সবজি নানানভাবে উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ভিটামিন ই মস্তিষ্কে বয়সের প্রভাব ও স্মৃতিভ্রংশ কমাতে বা দূর করতে সাহায্য করে। এক কাপ পালংশাকে দৈনিক চাহিদার ১৫ শতাংশ ভিটামিন ই থাকে। এবং রান্না করা আধা কাপ পালংশাকে দৈনিক চাহিদার ২৫ শতাংশ ভিটামিন ই থাকে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>