Published On: Wed, Apr 19th, 2017

HIV প্রতিরোধী কোষ তৈরির কৌশল আবিষ্কার

নতুন একটি বড় গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইমিউন কোষে HIV প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি  করতে সক্ষম হয়েছেন, যা কার্যকরীভাবেই কোষগুচ্ছকে ভাইরাস প্রতিরোধী করে তোলে। ল্যাবরেটরিতে এই প্রতিরোধী কোষগুলো শুধু রোগাক্রান্ত কোষগুলোকেই প্রতিস্থাপিত করে না, বরং তারা সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়াও প্রতিরোধ করে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেয়। গবেষণাটি আমেরিকার প্রসিডিংস অফ ন্যাশনাল একাডেমী অফ সায়েন্স এ প্রকাশিত হয়।

HIV বা হিউম্যান ইমিউনোডিফিসিয়েন্সি ভাইরাস ইমিউন সিস্টেমকে আক্রমণ করে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এখন পর্যন্ত ৩৫ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

সাম্প্রতিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধ HIV এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করছে। কিন্তু তারা এই ভাইরাসকে পুরোপুরি দূর করতে পারেনা। যে রোগীরা এই ঔষধগুলো গ্রহণ করা বন্ধ করে দেন তাদের মধ্যে  HIV এর পুনরাবৃত্তি হতে দেখা যায় খুব দ্রুত।

নতুন এই পদ্ধতিটি অন্য থেরাপির চেয়ে ভিন্ন। এতে অ্যান্টিবডি কোষের উপরিভাগেই থেকে যায়। এর মাধ্যমে ভাইরাস কোষের রিসেপ্টরে প্রবেশ করতে এবং প্রতিলিপি  গঠন করতে পারেনা। অন্য থেরাপির ক্ষেত্রে নিম্ন ঘনত্বের অ্যান্টিবডিগুলো রক্তস্রোতে ভাসতে থাকে।

নতুন পদ্ধতিতে ‘প্রতিবেশি প্রভাব’ (সাহায্যকারী একজন প্রতিবেশি থাকা যেমন উপকারী) কে কাজে লাগানো হয়েছে। এখানে রক্তস্রোতে ভাসমান অ্যান্টিবডির তুলনায় কোষের কাছাকাছি যে অ্যান্টিবডি থাকে তা অনেক কার্যকরী বলে জানা গেছে।

ল্যাব ডিশের পরিবেশে ‘যোগ্যতমের জয়’ এই বিষয়টি দেখার জন্য রোগাক্রান্ত ও প্রতিরোধী কোষকে রাখেন। এর ফলে দেখা যায় যে, অ্যান্টিবডি ছাড়া কোষগুলো মারা যায় এবং সুরক্ষিত কোষগুলো সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং তাদের সুরক্ষা গুণটি নতুন কোষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।

সিটি অফ হোপস সেন্টার ফর জিন থেরাপি এর পরিচালক জন এ জাইয়া এক বিবৃতিতে বলেন যে, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এইডস এর রোগীদের এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে আনা অন্যকোন ঔষধের সাহায্য ছাড়াই’।

গবেষক দলটি প্রথমেই তাদের কৌশলটি পরীক্ষা করে দেখেন রাইনোভাইরাসের উপর, যা সাধারণ ঠান্ডা সৃষ্টির জন্য দায়ী। তারপর তারা নতুন জিনের জন্য লেন্টিভাইরাস ব্যবহার করেন যা অ্যান্টিবডিকে সংশ্লেষণ করতে কোষকে নির্দেশনা দেয় যা রাইনোভাইরাসের জন্য প্রয়োজনীয় সেল রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণে এদের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে, ১২৫ ঘন্টা  পরে আবার এরা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসে। এই  সাফল্যের কারণেই তারা একই কৌশল এইচআইভি ভাইরাসের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা করে দেখেন।

HIV এর সব প্রজাতির ক্ষেত্রেই CD4 (একধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন যা ইমিউন কোষের উপরিভাগে থাকে) নামক সারফেস রিসেপ্টর এর সাথে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তাই বিজ্ঞানীরা এই রিসেপ্টরগুলোকে ঢেকে রাখতে পারে এমন একটি অ্যান্টিবডি ব্যবহার করেন। তারপর তারা এই কোষগুলোকে ভাইরাসের সাথে পরিচয় করান কৌশলটি কাজ করে কিনা দেখার জন্য। কৌশলটি কাজ করে এবং ফলাফলে দেখা যায় যে, কোষ সমূহ HIV এর প্রতি প্রতিরোধী হয়ে ওঠেছিলো।

আমেরিকার দ্যা স্ক্রিপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর প্রধান লেখক রিচারড লার্নার বলেন, ‘এটি আসলে কোষীয় টিকার একটি রূপ’।

যদিও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পূর্বে আরো কাজ করা প্রয়োজন, এই প্রাথমিক আবিষ্কারটি একটি গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে। যেখানে অন্য গবেষণাতেও ভাইরাসকে টার্গেট করে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি ব্যবহারের উপর ফোকাস করা হচ্ছে। গবেষক দলটি অন্য একটি ধারণার প্রমাণও দিয়েছে যা ভবিষ্যৎ গবেষণায় পরিমার্জিত হবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>