Published On: Fri, Apr 21st, 2017

যে অভ্যাসগুলো আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমানোর জন্য দায়ী

বাজার করতে বের হলেন কিন্তু মানি ব্যাগটি নিতে ভুলে গেলেন। আবার হাজার চেষ্টা করেও প্রিয় মানুষটির জন্মদিন মনে করতে পারছেন না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। অনেকে এটিকে বয়সের দোষ মনে করে থাকেন। শুধু বয়স নয়, আমাদের কিছু অভ্যাসও রয়েছে এই ভুলে যাওয়ার পিছনে। আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক। আর আমাদের প্রত্যহিক কিছু কাজে এটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এমন কিছু অভ্যাস বা কাজ যা আমাদের মস্তিষ্ককে সংকুচিত করছে।

১। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ

চিনি গ্রহণ নিয়ে বাঁধা নিষেধ শোনা যায়। কিন্তু আরেকটি উপাদান আছে যা চিনির চেয়ে ক্ষতিকর, সেটি হলো লবণ। যামা নিউরোলজি একটি জার্নালে প্রকাশ করেন অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী। যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস করে।

২। অপর্যাপ্ত ঘুম  

রীরের অন্যান্য কোষের মতো মস্তিষ্কের কোষও নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর এই ক্ষতি মস্তিষ্ক পুষিয়ে নেয় ঘুমের মাধ্যমে। তাই কম ঘুমের ফলে মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন আপনি। প্রতিদিন কম ঘুমানোর ফলে ভবিষ্যতে আপনার মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। শরীরের মতো মস্তিষ্কের ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।

৩। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ

প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার বিশেষ করে জাঙ্ক ফুড গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শুধু স্বাস্থ্য নয় এটি মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর। প্রক্রিয়াজাত, মসলাদার জাঙ্কফুড ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

৪। একাকীত্ব

আমাদের মস্তিষ্ক অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে একাকীত্ব অন্যতম। অনেক বন্ধু থাকা মানে এই নয় যে আপনি একা নন। অনেক মানুষের মাঝেও আপনি একা থাকতে পারেন।  একাকীত্ব স্ট্রেস তৈরি করে মস্তিষ্কে কাজে বাঁধাগ্রস্ত করে। রাস ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার এক জরিপে দেখেছে যে, যে সকল বয়স্ক মানুষ কম সোশ্যাল কার্যকলাপে জড়িত ছিল তারা মস্তিষ্কজনিত রোগে বেশি ভুগে থাকেন।

৫। ধূমপান

ধূমপান মস্তিষ্কের কোষের জন্য ক্ষতিকর, এটি বিপজ্জনক গতিতে আপনার মস্তিষ্কের সংকোচন সাধন করে। ধূমপান ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। শুধু ধূমপান নয় মদ্যপানও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

৬। ঘুমানোর সময় মাথা ঢেকে রাখা

অনেকের মুখ ঢেকে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস। এতে কার্বন ড্রাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। যা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

৭। অসুস্থতার সময় কাজ

অসুস্থতার সময় কাজ করা অথবা পড়ালেখা করা মস্তিষ্কের উপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে। তাই অসুস্থতার সময় মস্তিষ্কের উপর জোর দিয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>