কিভাবে ফল ও শাক সবজি বিষমুক্ত করবেন? জেনে নিন পদ্ধতি!

সুস্থ্য থাকতে ফল শাক সবজির জুরি নেই এ তো আমরা সবাই জানি । প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাক-সবজি খাবেন কারণ এসব খাবার ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এবং এগুলোতে খাদ্যআঁশ থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সম্ভাবনা কমায়। লক্ষ্য রাখবেন প্রতিদিনের খাবারে যেন অন্তত ফল ও শাক-সবজির ৫ টি পরিবেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে।

মিষ্টি আলু, গাজর, মিষ্টি কুমড়ায় বিটা ক্যারোটিন নামের ফাইটোকেমিক্যাল থাকে। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া ঠান্ডার সমস্যা দূর এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে হলুদ রঙের ফল ও সবজি। ফলের মধ্যে কমলা ও আঙুরে বায়োফ্লেভোনয়েড থাকে, যা ভিটামিন সি-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো ছাড়াও হাড় ও দাঁত শক্ত করে, দ্রুত জখম সারায় ও ত্বক সুন্দর করে। আম, পেঁপে, আনারসেও এ উপকার পাওয়া যায়। শুধু অল্প কথায় শেষ করা যাবে না এর গুনাগুণ লিখে । আললে আজকের ফিচার গুনাগুণ জানাবার জন্য নয় । জানুন যে কারনে আজকের ফিচার টি দেয়া । আপনি যদি শুধুমাত্র অরগ্যানিক ফল ও শাক সব্জি খান তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই ফল আর শাক সবজি করে পরিষ্কার করে নিতে হবে খাওয়ার আগে। সম্প্রতি কয়েকজন সুইডিশ বিজ্ঞনী প্রমাণ করে দিয়েছেন ফল ও শাক সব্জিতে যে কীটনাশক‚ ছত্রাকনাশক আর প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর থাকে তা বাচ্চা এবং বড় দুজনের শরীরেরই ক্ষতি করে। কিন্তু মাত্র যদি দু‘ সপ্তাহ এই কীটনাশক বোঝাই করা ফল ও সব্জি না খান তাহলেই দেখা গেছে শরীর থেকে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বেরিয়ে গেছে।

কেন ফল ও শাক সবজি খাওয়ার আগে ভালো করে পরিষ্কার করা উচিত?

# সুস্থ ব্রেনের জন্য : পরীক্ষা নীরিক্ষার পর জানা গেছে যে কীটনাশক যুক্ত ফল ও শাক সব্জি খেলে পার্কিনসনস ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।

# ক্যান্সারের রিস্ক কমাতে : সারা পৃথিবী জুড়ে গ্লাইফোসেট নামের কীটনাশকের ব্যবহার সব থেকে বেশি মাত্রায় হয়। পরে এই কেমিক্যাল মানুষের রক্তে এবং ব্রেস্ট মিল্ক-এ পাওয়া গেছে। আর এই কেমিক্যালকে সরাসরি যুক্ত করা হয় ক্যান্সারের সঙ্গে। এছাড়াও বিভিন্ন কীটনাশক আছে যা শরীরে টিউমারের জন্ম দেয় এবং একই সঙ্গে টিউমারের বাড়বাড়ন্তে সাহায্য করে।

# বাচ্চার শরীর সুস্থ রাখতে : যেহেতু বাচ্চাদের শরীরের এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঠিক ডেভলপমেন্ট তখনো সম্পূর্ণ হয় না তাই টক্সিন আর কেমিক্যাল থেকে ওদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে কীটনাশক যুক্ত ফল ও সব্জি খাওয়ার ফলে বাচ্চার শরীর খারাপ হয়েছে।

কিভাবে করবেন?

⇒ঠান্ডা পানিতে ভালো করে ঘষে ঘষে ধুতে হবে : দ্য সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের মতে ৭৫% থেকে ৮৫% অবধি কীটনাশক ঠান্ডা জলে ধুলে চলে যায়।

কিন্তু কয়েকটা ফল যেমন আপেল‚ পেয়ারা‚ আঙুর‚ প্লাম‚ আম‚ পিচ‚ ন্যাসপাতি এবং সব্জির মধ্যে টমেটো ‚ভিন্ডি আর শাকপাতাকে অন্তত তিন বার ঠান্ডা পানিতে ধুতে হবে।

ভালো করে ফল আর সবজির গা ঘষে ঘষে ধুতে হবে। অনেক সময় ফলের মুখের কাছে কীটনাশক জমে থাকতে পারে সেই অংশ কেটে বাদ দিয়ে দিন বা ভালো করে ধুয়ে নিন। অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঠান্ডা পানির তলায় ঘষে ঘষে ধুতে হবে।

⇒লবন পানির মিশ্রণ : লবন পানি দিয়ে যদি ফল ও শাক সবজি ধোয়া হয় তাহলে তা আরো পরিষ্কার হবে। ২ টেবিল চামচ নুন ৪ কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। জল ঠান্ডা করে তাতে ৩০-৬০ মিনিট ফল ও শাক সব্জি ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানির তলায় ভালো করে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে।

স্ট্রাবেরি বা চেরি ফলের মতন নরম ফল লবন পানিতে না ডুবিয়ে রাখাই ভালো কারণ তা ফলের মধ্যে সোক করে ঢুকে যেতে পারে। এইসব ফলের জন্য এমনি ঠান্ডা জলের মধ্যে তা ভিজিয়ে রাখুন।

⇒ভিনিগার-এ ভিজিয়ে রাখুন : লবন পানির বদলে ভিনিগারের মধ্যেও ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়াও ভিনিগারের বদলে লেবুর রস ও ব্যবহার করতে পারেন।

একটা বড় পাত্রে চার ভাগ পানি আর এক ভাগ ভিনিগার দিন। এতে এবার ফল ও শাক সব্জি ভিজিয়ে রাখুন। ৩০-৬০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর ভালো করে ঘষে ঠান্ডা জলের তলায় ধুয়ে নিন। ভিনিগার ব্যবহার করলে ফল ও শাক সব্জি বেশি দিন তাজাও থাকবে।

⇒ঘরে তৈরি ফল ও শাক সব্জির স্প্রে : যদি তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকেন তাহলে লবন পানি বা ভিনিগারের মধ্যে না ভিজিয়ে রেখে‚ এই স্প্রে ব্যবহার করুন।

একটা স্প্রে বোতলে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস‚ এক টেবিল চামচ ভিনিগার আর এক কাপ জল ভালো করে মিশিয়ে নিন। বোতল ভালো করে ঝাঁকিয়ে ফল ও শাক সব্জির গায়ে স্পে করুন।

২ মিনিট রেখে‚ অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঘষে ঠান্ডা জলের তলায় ধুয়ে নিন।

⇒খোসা ছাড়িয়ে ট্রিম করে নিন : এই পদ্ধতিই হয়তো সব থেকে কার্যকর যার সাহায্যে কীটনাশক এবং অন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যাল পেটে যাওয়ার থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু সব ফল ও শাক সব্জির ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয় কারণ অনেক ফল ও সবজির খোসা থাকে না।

বাসন ধোয়ার ডিশ ওয়াশ বা সাবান বা ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। ফল ও শাক সব্জির গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। সাবান দিয়ে ধুলে বা ব্লিচ করলে তা কিন্তু সবজি ও ফলের মধ্যে চলে যেতে পারে। এর ফলে কিন্তু উপকারের বদলে অপকারই বেশি হবে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>