৭ টি বাজে অভ্যাসে হতে পারে মৃত্যু ! বাঁচতে হলে জেনে নিন

আমাদেরই কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মানব দেহ । এরই ফলাফল হিসেবে মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। অনেকে জেনে বুঝে, আবার অনেকেই না জেনে কিছু বাজে কাজের মাধ্যমে দেহের অঙ্গ গুলো নষ্ট করে ফেলছেন ধীরে ধীরে।

আপনি কি জানেন, ভুল অঙ্গবিন্যাসে বসা আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে? ভুল অঙ্গবিন্যাসে বসা কোমর ব্যথার অন্যতম কারণ। এটি মেরুদণ্ড ও পাঁজরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে এক পর্যায়ে হার্ট ও ফুসফুসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এমনই কিছু বাজে অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো শরীরের ক্ষতি করে এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট জার্সি ডেমিক প্রকাশ করেছে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।

সারা দিন বসে থাকা

গবেষণায় বলা হয়, যেসব নারী ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বসে থাকেন, তাঁদের ৪০ ভাগ ১৫ বছরের মধ্যেই মারা যান। আর যেসব পুরুষ তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে থাকেন, তাঁদের ২০ ভাগের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। টানা বসে থাকলে বিপাকে সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

দ্রুত খাবার খাওয়া

খুব দ্রুত খাবার খাওয়া এসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা তৈরি করে। এতে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ওজন বাড়লে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের উদ্ভব হয়, যা এক পর্যায়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

কম ঘুমানো

অন্তত ছয় ঘণ্টার কম ঘুম দ্রুত মৃত্যুর কারণ হয়—এমনটাই মতামত বিশেষজ্ঞদের। ঘুমের সমস্যার কারণে হৃদরোগ, ওজনাধিক্য, কাজে অনীহা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

বেশি কাজ করা

গবেষণায় বলা হয়, যাঁরা প্রতিদিন সাত ঘণ্টা কাজ করেন, তাঁদের তুলনায় যাঁরা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করেন, তাঁদের ৬০ ভাগ লোকের হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে।

লাল মাংস বেশি খাওয়া

লাল মাংস (গরু, খাসি) বেশি খেলে ওজন বাড়াসহ শরীরে বিভিন্ন সমস্যা হয়। গবেষণায় বলা হয়, যাঁদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লাল মাংস বেশি থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

ধূমপান

জানেন কি, ধূমপান ১০ বছর আয়ু কমিয়ে দেয়? ফুসফুসে ক্যানসার, সিওপিডিসহ বিভিন্ন জটিল রোগ ধূমপানের কারণে হয়।

সকালের নাশতা না করা

যাঁরা সকালের নাশতা খান না, তাঁদের ৪ দশমিক ৫ ভাগ লোকের স্থূল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>