আপনি জানেন কি? মানবদেহের হাড় সুগঠিত করে ‘দই’ !

দই মানবদেহের হাড় সুগঠিত করে তোলে । বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে পেছনের হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমানোয় দইয়ের ভূমিকা অসাধারণ। আইরিশ জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত বিশেষ পর্যবেক্ষণভিত্তিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে এ দাবি তুলেছেন গবেষকরা। খবর সায়েন্স ডেইলি।

গবেষকরা বলছেন, দই খেলে ঘনত্ব বেড়ে মানবদেহের পেছনের হাড় (আপার হিপ বোন) সুগঠিত হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে কমে আসে অস্টিওপরোসিসের (হরমোনগত পরিবর্তন অথবা ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন-ডির অভাবে টিস্যু ক্ষয়ের কারণে হাড় ভঙ্গুুর কিংবা নরম হয়ে পড়া) ঝুঁকিও।

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনভিত্তিক সেন্ট জেমস হসপিটালের সহযোগিতায় ও ট্রিনিটি কলেজের গবেষকদের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া কোলারাইন শহরের আলস্টার ইউনিভার্সিটির পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরাও এতে অংশ নেন। প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর ওপর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ গবেষণা চালান বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত এটিই কোনো ডেইরি পণ্য নিয়ে পরিচালিত পর্যবেক্ষণভিত্তিক বৃহত্তম গবেষণা বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গবেষণা নিবন্ধের প্রধান লেখক এবং ট্রিনিটির সেন্টার ফর মেডিকেল গেরেন্টোলজির রিসার্চ ফেলো ড. ইমন লেয়ার্ড বলেন, ‘হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন উপাদানের এক সমৃদ্ধ উত্স হলো দই। এ কারণে আমাদের গবেষণায় উঠে আসা তথ্য খুব একটা আশ্চর্যজনকও নয়। গবেষণায় উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় যে, আমাদের হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার একটি অন্যতম কৌশল হতে পারে খাবারে দই গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি। তবে শুধু পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায়, বিষয়টি নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে’।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

পুড়িয়ে ফেলুন সবজি, তারপর দেখুন ম্যাজিক !

অনেক খেয়েছেন ৷ এবার পুড়িয়ে ফেলুন ! হ্যাঁ, এরকমটিই বলছেন বিদেশি গবেষকরা ৷ ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক ৷

বৌদ্ধ ধর্মে এরকম চর্চা চলছে অনেক আগে থেকেই ৷ এমনকী, জাপান, চীন, থাইল্যান্ডেও এরকম অভ্যাস রয়েছে ঘরে ঘরে ৷ ব্যাপারটি আর কিছুই নয় ৷ এতদিন ডাক্তাররা বলতেন, যত পারুন, সবজি খান ৷ আর এখন তাঁরাই বলছেন খাবেন তো অবশ্যই ৷ সঙ্গে সবজিকে পুড়িয়ে ফেলুন ৷

তবে এই ধরণের চর্চা শুধুমাত্র আয়ূর্বেদ চর্চাতেই ঘটে থাকে ৷ আয়ূর্বেদ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করে শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য শাক-সবজি খাওয়া অত্যন্ত জরুরী ৷ কিন্তু সে সঙ্গে আপনি যে বাড়িতে বাস করেন, যে ঘরের মধ্যে বেশিরভাগ সময় কাটান, সেই পরিবেশকেও সুস্থ রাখা আপনার দায়িত্ব ৷

বৌদ্ধ চর্চায় এই নেগেটিভ এনার্জি বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়াকে দূর করার জন্য বিশেষ এক ধূপ ব্যবহার করা হয় ৷ এই ধূপ আসলে নাকি ভুট্টার বীজ ! যাকে জ্বালিয়ে সেই ধোঁয়া ঘরে মধ্যে ছড়িয়ে দিলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয় ৷

গবেষকরা বলছেন, শুধু ভুট্টার বীজ নয় ৷ নিমপাতা, তেজপাতা জ্বালিয়ে নিয়মিত যদি ঘরে তার ধোঁয়া ছড়ানো যায়, তাহলে ব্যাকটেরিয়া দূর হওয়া সম্ভব ৷ শুধু নিমপাতা, তেজপাতা নয়, এমনকী গবেষকরা বলছেন সরষে, জিরে আগুনে পুড়িয়ে সেই ধুঁয়ো ঘরে ছড়িয়ে দিলও উপকার পাওয়া যায় ৷

ধুনো দেওয়ার রীতি তো অনেক দিন আগে থেকেই রয়েছে বহু বাড়িতে ৷ এই ধুনো দেওয়ার পিছনেও রয়েছে এই ব্যাকটেরিয়া দূর করার এক পদ্ধতি ৷

গবেষণা অনুযায়ী, এই সবজি পুড়িয়ে তার ধোঁয়া ছড়িয়ে যাওয়া বেশ জনপ্রিয় চীন ও জাপানে ৷ এমনকী, সেখানে রীতিমতো অনুষ্ঠান করে পোড়ানো হয় কাচা সবজি !

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>