যেসব খাবারে যৌবন থাকবে সবসময় চাঙ্গা ! জেনে নিন !

যৌবন থাকুক অটুট সে তো চায় সবাই ৷ বয়সের ছাপ যাতে না বোঝা যায় তার জন্য নানা ক্রিম, নানা প্যাক, বিউটি পার্লারে দৌড় ৷ পকেট হয় গড়ের মাঠ ৷ আসলে লাভ হয় না কিছু ৷ কেমিক্যালের চাপে পড়ে, স্কিনের অবস্থা বেহাল ৷ কিন্তু জানেন কি ? এই সব না করে, শুধুমাত্র কয়েকটা জিনিস নিয়মিত খেলেই খুব সহজেই নিজের যৌবনকে রাখা যায় অটুট !

বেদানা: ডাক্তাররা বলছেন বেদানায় থাকে প্রচুর ভিটামিন সি ৷ আর ভিটামিন সি, ত্বকের ক্ষেত্রে দারুণ ৷ ডাক্তারদের কথায়, বয়স বাড়লে ত্বকে ভাজ পড়ে যায় ৷ চামড়া শুষ্ক হয়ে পড়ে ৷ তাই রোজ দুপুরের খাবার খাওয়ার পরে, একটা বেদানা যদি খেতে পারেন, উপকার পাবেন ৷ তবে বেদানা জ্যুস খেলে খুব একটা লাভ হবে না ৷ বরং ডাক্তাররা বলছেন, চিবিয়ে খান ৷ কারণ, বেদানার বিজেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন সি ৷

বিউটিশিয়নদের কথায়, ফেস প্যাকে বেদানার রস মিশিয়ে নিতে পারেন ৷ বেদানার রস খুব ভালো ন্যাচেরাল ময়েশ্চারাইজার ৷

মোনাক্কা বা কালো আঙুর: কালো আঙুর বা মোনাক্কা ত্বকের পক্ষে খুবই ভালো ৷ কালো আঙুরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই ৷ এই ফল নিয়মিত খেলে, শুষ্ক, প্রাণহীন ত্বকে প্রাণ ফেরে ৷ শুধু তাই নয়, রোদে ত্বক কালছে হয়ে যাচ্ছে ? বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দু’কএটা কালো আঙুর খেয়ে ফেলুন ৷ ডাক্তাররা বলছেন, কালো আঙুর রোদ থেকে ত্বককে বাঁচাতে সাহায্য করে ৷ শুধু তাই নয়, স্ট্রেসের জন্য ত্বক নষ্ট হয়ে যায় ৷ নিয়মিত কালো আঙুর খেলে, খুব ভালো ফল দেবে৷

বিউটিশিয়নরা বলছেন, কালো আঙুরের রসে তুলো ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বক থেকে কালো ছোপ দূর হবে ৷ ত্বক হবে ঝকঝকে ৷

পালং শাক: রান্না করা নয়, বরং স্যালাডে পালং শাক রাখুন ৷ ডাক্তাররা বলছেন, সুস্থ এবং ত্বক ঝকঝকে রাখতে পালং শাক দারুণ কাজ করে ৷ পালং শাকের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ৷ যা ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে ৷ চামড়ায় বলিরেখা আটকাতেও সাহায্য করে পালং শাক ৷ ব্রেক ফার্স্ট বা বিকেলের খাবারে পালং সাক রাখতে পারেন ৷ স্যালাডের মধ্যে অবশ্যই দিন পালং শাক !

তরমুজ: তরমুজ ন্যাচেরাল ময়েশ্চারাইজার ৷ স্কিনকে আদ্রতা প্রদান করে তরমুজ ৷ রোদে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার ৷ বিউটিশিয়নরা বলছেন, তরমুজ নিয়ে গায়ে-হাত পায়ে মাখুন ৷ এতে কালো ছোপ দূর হবে ৷

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>