কোন জিনিসটি করলে মুখে আর কখনো দুর্গন্ধ থাকবে না !

সুন্দর চেহারা, মিষ্টি হাসি… অথচ তারপরও অনেকে কাছে আসতে চায় না৷ তার উপর এই না আসার কারণটাও কেউ বলে না সরাসরি৷ কারণ সমস্যাটা যে রয়েছে আপনার মুখে ৷ আর এই মুখে গন্ধের সমস্যাটা সত্যি চাপের!

দুর্গন্ধ যুক্ত নিঃশ্বাসের কারণ ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে জিভের ওপর বাসা বাঁধা জীবাণু ৷ তবে অনেকের জিভ দেখে প্রথমে বোঝা না গেলেও, ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ব্যাকটেরিয়াযুক্ত জিভে রুক্ষতা ও অসমতা রয়েছে৷

মুখে দুর্গন্ধের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে নিয়মিত মুখ, দাঁত, মাড়ি ও জিভের যত্ন না নেওয়া ৷ যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁদের তা থেকেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে৷ কারণ ওষুধ খেলে মুখের লালা উৎপাদন কমিয়ে ফেলে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের ৷

জিভে জমা হয় তিন রকমের ব্যাকটেরিয়ার স্তর আর সেই স্তর থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়৷ তাই ডাক্তারদের কথায়, ভাল করে মুখ পরিষ্কার করা প্রয়োজন৷ তবে শুধু দাঁত পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়৷ প্রতিদিন ভালভাবে, অর্থাৎ ছবিতে যেভাবে দেখানো হচ্ছে ঠিক সেভাবে জিভ পরিষ্কার করতে হবে৷ তবে সেটা করতে হবে জিভে কোনওরকম আঘাত না দিয়ে৷

মুখে যাঁদের দুর্গন্ধ রয়েছে, তাঁদের প্রথমেই দাঁতের ডাক্তারের সঙ্গে কনসাল্ট করা দরকার ৷ কারণ তিনিই সমাধান খুঁজে দেবেন৷ মুখে দুর্গন্ধ পেট বা লিভারের কোনও সমস্যার কারণে হতে পারে৷ তাই প্রয়োজনে দাঁতের ডাক্তার অন্য ডাক্তারের কাছেও পাঠাতে পারেন৷ কারণ দুর্গন্ধের সঠিক কারণ খুঁজে পেলেই যে সঠিক চিকিৎসা সম্ভব!

খাদ্যাভ্যাসে গন্ডগোল, হজমে সমস্যা, লিভারের সমস্যা প্রভৃতি নানা কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু এর থেকে কী মুক্তির উপায় নেই?  নিশ্চয় আছে। সামান্য কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখলেই মুখে দুর্গন্ধের জন্য আর লোকসমাজে লজ্জায় পড়তে হবে না।

–জল বেশি করে খান- জল বেশি করে খেলে খাবারের কণা এবং অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে যায়। মুখ শুকনো হয়ে গেলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়। তাই বারবার জল খান।

–কিছু খাদ্য ও পানীয় এড়িয়ে চলুন ৷ যেমন ভাজাভুজি, চিপস,চিনিযুক্ত স্ন্যাক্স , সফট ড্রিঙ্কস ।

–বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো প্রয়োজন কীভাবে দাঁত এবং মাড়ি পরিষ্কার করতে হয়৷  প্রতিদিন সকালে এবং রাতে অবশ্যই দাঁত ও জিভ ব্রাশ করা প্রয়োজন, ঠিক যেমন প্রতিদিন শরীর ঠিক রাখতে খাওয়া-দাওয়া  প্রয়োজন ৷

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>