গোপন এক ভয়ানক যন্ত্রণার অসুখ! আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ !

এমন একটি রোগ যার কথা সহজে কাউকে বলা যায় না! আবার সহ্যও করা যায় না!

পরামর্শ- অধ্যাপক ডাঃ এসএমএ এরফান

এনাল ফিসার হচ্ছে এমন একটি রোগ যার কথা সহজে কাউকে বলা যায় না, আবার সহ্যও করা যায় না, রোগী সর্বাক্ষন যন্ত্রনায় অস্থির থাকেন।

হাটতে পারেন না, বসতে পারেন না, টয়লেট করতে পারেন না যন্ত্রার ভয়ে।

এনাল ফিসার হচ্ছে পায়ুপথের একটি রোগ।পায়ুপথের সকল রোগকেই সাধারন মানুষ পাইলস মনে করে ,কিন্তু পাইলস ছাড়াও এখানে আরো অনেক ধরনের রোগ হয়, এনাল ফিসার তাদের মধ্যে একটি।

এনাল ফিসার কি?

অ্যানাল ফিশার। 
মল শক্ত হলে অনেক সময় মলদ্ধার ফেটে যায়, প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং রক্ত যায়। এটাই হলো অ্যানাল ফিসার বা গেজ। যে কোন বয়সে এটা হতে পারে। প্রথমবার হলে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এটা বার বার হয়। যখনই মল শক্ত হয় তখনই এটা আবার দেখা দেয়। তখন এটাকে বলে ক্রনিক অ্যানাল ফিসার। ক্রনিক অ্যানাল ফিসারে ব্যথা কম হয়। মলদ্বারের সামনে বা পেছনে বকের ঠোঁটের মত মাংস হাতে লাগে এবং এজন্য এটাকে গেজ বলে। অনেক দিন এই অবস্থা থাকলে এখানে ফিস্টুলা বা ভগন্দর হতে পারে।

খুব সহজ ভাষায় এনাল ফিসার হচ্ছে পায়ুপথ ছিড়ে যাওয়া। সাধারনত প্রবল কোষ্ঠ কাঠিন্য হলে, অথবা যথাযথ প্রকৃয়ায় টয়লেট না করলে শক্ত মল অথবা অতিরিক্ত চাপের কারনে পায়ুপথ একটু খানি ছিড়ে যায়।

লক্ষন:

যেহেতু পায়ুপথ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা ছিড়ে যাওয়ার পর মলত্যাগ করলেই তীব্র ব্যাথা শুরু হয়। সেই ব্যাথা কারো আধা ঘন্টা, কারো সারাদিন স্থায়ী হয়। ব্যাথা পিনে খোচা দেওয়ার মত, ছুরি দিয়ে কাটার মত হতে পারে।সে ব্যাথা সারা তলপেটে ও পায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে।

সাথে চুলকানি ও একধরনের অস্বস্থি হতে পারে। রোগী ব্যাথার ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না, ফলে কোষ্ঠ আরো কঠিন হয়ে পড়ে। এবং পরবর্তী মলত্যাগে ব্যাথা আরও বাড়ে।বিষয়টি দুষ্টচক্রের মত চলতে থকে।

ব্যাথা ছাড়া অন্য আর একটি উপসর্গ হচ্ছে রক্ত যাওয়া, তবে এনাল ফিসারে রক্ত বেশী যায় না, সাধারনত: মলের গায়ে লেগে কিংবা টিস্যু পেপারে দেখা যায় দু এক ফোটা রক্ত কমোডেও দেখা যেতে পারে। রক্ত, ব্যাথা ছাড়া পায়ুপথে সামান্য ফোলা বা গেজ, টয়লেট আসতে দেরী হওয়া, ইত্যাদি হতে পারে।

চিকিৎসা:

ব্যাথা যতই তীব্র হোক না কেন, এনাল ফিসারের চমৎকার চিকিৎসা আছে। প্রাথমিক পর্য্যায়ে কিছু স্থানিক মলম, মল নরমের ঔষধ ইত্যাদি ব্যাবহার করলে ভাল হয়ে যায়। আর যাদের এসবে হয় না তাদের ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ন একটি অপারেশন করতে হয়।

এই অপারেশন এত ছোট যে রোগী চাইলে দিনে দিনে বাড়ী চলে যেতে পারেন। যথাযথভাবে এই অপারেশন হলে এই রোগ আর দেখা দেয় না। আমাদের শত শত রোগী অপারেশনের পর পুরোপুরি সুস্থ আছেন। সুতরাং এই অসহনীয় রোগ কে লালন না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত ।

 

জীবনে কম-বেশি পাইলসের সমস্যায় ভোগেননি এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। পাইলস বলতে আমরা বোঝাই মলদ্বারে রক্ত যাওয়া, ব্যথা হওয়া, ফুলে ওঠা, মলদ্বারের বাইরে কিছু অংশ ঝুলে পড়া আবার ভেতরে ঢুকে যাওয়া ইত্যাদি। এর চিকিৎসা হিসেবে আদিকাল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতি চলে এসেছে যেমনইনজেকশন পদ্ধতি, রিংলাইগেশন পদ্ধতি ও অপারেশন। ইনজেকশন পদ্ধতি ১৮৬৯ সালে আমেরিকায় শুরু হয়। এ পদ্ধতিটি প্রাথমিক ও ছোট পাইলসে ভালো ফল দেয়, কিন্তু সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

বিস্তারিত আলোচনা থেকে জানুন:-

মলদ্বার না কেটে পাইলস অপারেশন

এর পর১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডে রিংলাইগেশন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়। রিংলাইগেশন পদ্ধতির ফলাফল খুব ভালো। ৮০-৯০ ভাগ পাইলস রোগী এ পদ্ধতিতে ভালো হন। কিন্তু শতকরা ১০-২০ ভাগ রোগীর অপারেশন প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের পাইলস বড় হয়েছে এবং বাইরে বেরিয়ে আসে। এ অবস্থায় প্রচলিত আধুনিক পদ্ধতিতে আমরা অপারেশন করে থাকি। এ অপারেশনে মলদ্বারের চতুর্দিকে তিন জায়গায় বেশ কিছু অংশ কেটে ফেলে দিতে হয়; যার ফলে অপারেশনের পর প্রচুর ব্যথা হয়, মলত্যাগের পর ব্যথা বেড়ে যায়, অনবরত সামান্য রক্ত ও পুঁজের মতো নিঃসরণ হয়, যার ফলে ক্ষতস্থান শুকাতে এক থেকে দুই মাস লাগে। অপারেশনের পর ক্ষেত্রভেদে মলদ্বার সঙ্কুচিত হয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তোলে আবার পায়খানা আটকে রাখার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।

এরূপ বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীর এক থেকে দেড় মাস লাগে। মলদ্বারের চতুর্দিকের মাংস কাটার জন্য মলদ্বারের ভেতরের অনুভূতি কমে যায়, যার জন্য মল আটকে রাখার ক্ষমতার তারতম্য হতে পারে।এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ডা: এন্টনিও লংগো, অধ্যাপক সার্জারি, ইউনির্ভাসিটি অব প্যালেরমো, ইতালি ১৯৯৩ সালে একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন; যার নাম Longo Operation বা Stapled Hemorrhoidectomy। অর্থাৎ অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে মলদ্বার না কেটে পাইলস অপারেশন। এ পদ্ধতির Concept বা চিকিৎসার ধারণা সম্পূর্ণ আলাদা। এ ক্ষেত্রে পাইলসটিকে একটি ঝুলে পড়া মাংসপিণ্ড হিসেবে মনে করা হয়। এই ঝুলে পড়া মাংসপিণ্ডের ভেতর অসংখ্য শিরামল তাগের সময় প্রচণ্ড চাপে রক্তপাত ঘটায়। বিশেষ ধরনের যন্ত্রের (Hemorrhoridal circular Stapler, Elthicone Endosurgery, (USA)) সাহায্যে অপারেশনের ফলে ঝুলে পড়া পাইলস ভেতরে ঢুকে যাবে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ পদ্ধতিতে আসলে পাইলসের স্থানে বা মলদ্বারে কোনো কাটা ছেঁড়া হয় না।

স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে কাটা ছেঁড়া হয়, তবে তা মলদ্বারের অনেক গভীরে।এই যন্ত্রটি রেকটামের ভেতর একটি চক্রাকার মাংসপিণ্ড কেটে নিয়ে আসে।কাটা ছেঁড়া করে ওই যন্ত্রটিই আবার সেলাইও সেরে দেয়, যার কারণে কোনো ক্ষতস্থান থাকে না। আর ক্ষতস্থান থাকে না বলে শুকানোর প্রশ্ন আসে না।মলদ্বারের অনেক গভীরে যে স্থানটির নাম রেকটাম, সেখানে কোনো ব্যথার অনুভূতিনেই। তাই এই অপারেশনের পর কোনো রকম ব্যথা হয় না। তবে মলদ্বারে কিছু নাড়াচাড়া করা হয়, যার ফলে অপারেশনের পর অল্প ব্যথা হতে পারে। এ পদ্ধতিতে পাইলসের উৎপত্তিস্থল অর্থাৎ রেকটামের ভেতর অপারেশনের ফলে পাইলসের রক্ত সরবরাহের শিরাগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

এ পদ্ধতিতে গঠনগত দিক থেকে মলদ্বার সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে। মলদ্বারে সামান্যতম কোনো কাটা ছেঁড়া নেই। এটিই এইঅ পারেশনের নতুন দিক। যার কারণে অপারেশনের পর প্রচণ্ড ব্যথা নেই। রক্ত বাপুঁজ পড়ার সমস্যা নেই। ক্ষতস্থান শুকানোর জন্য দেড় মাস দরকার নেই। মলদ্বার সরু হয়ে যাওয়ার সমস্যা নেই। দীর্ঘ দিন ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ দিন বিশ্রাম বা ছুটি নেয়ার প্রয়োজন নেই।

পায়খানা আটকে রাখার ক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার ভয় নেই। সর্বোপরি আবার পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা অতি সামান্য, অর্থাৎ শতকরা ২ ভাগ।এ অপারেশনে অজ্ঞান করা হয় না তবে কোমরের নিচের দিকে অবশ করা হয়। অপারেশনের জন্য রোগীকে দু-তিন দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। একটি অত্যাধুনিক বিশেষ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করতে হয় যেটি কিছুটা ব্যয়বহুল। কিন্তু এ পদ্ধতির সুবিধাগুলো পর্যালোচনা করলে প্রায় সব রোগীই এতটুকু ত্যাগ স্বীকারে রাজি হবেন। ৫-১০দিনের মধ্যে রোগী স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবেন। অন্য দিকে সাধারণ অপারেশন হলে রোগীর এক থেকে দেড় মাস বিশ্রাম লাগতে পারে।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>