কিডনি ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে টমেটো, রয়েছে আরও দারুন উপকারিতা

আপনি কি কিডনি ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে চান? তাহলে বেশি বেশি টমেটো খান। টমেটো কিংবা লাইকোপেন সমৃদ্ধ ফল ও সবজি কিডনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় বলে নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে।

লাইকোপেন একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণেই টমেটো, তরমুজ, আঙ্গুর ও পেঁপের লালচে রং হয়।

ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ৯২ হাজার নারীর খাদ্যাভাসের ওপর এই গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তাদের খাবারে লাইকোপেনসহ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট গ্রহণের পরিমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩৮৩ জন নারীর কিডনি ক্যান্সার ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে যে সব নারী কম লাইকোপেন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করেছেন তাদের তুলনায় যারা প্রচুর পরিমাণ লাইকোপেন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করেছেন তাদের কিডনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কম।

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও প্রদেশের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির আবাসিক চিকিৎসক ওন জিন হোয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে লাইভ সাইন্স সাময়িকী জানিয়েছে, একজন নারী দৈনিক সর্বোচ্চ যতটুকু লাইকোপেন গ্রহণ করে তা চারটি টমেটোতে থাকা লাইকোপেনের সমান।

তবে শুধু টমেটো থেকেই নয়, টমেটো সস কিংবা লাইকোপেন সমৃদ্ধ অন্য ফল ও সবজি থেকেও নারীরা লাইকোপেন গ্রহণ করেন বলে জানান ওন জিন হো।

আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক বৈঠকে এই গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়েছে।’

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>