আপনার ভুলেই হারাচ্ছেন নিজের দৃষ্টিশক্তি ! এই লক্ষণ গুলো দেখলেই সাবধান হোন!

আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অঙ্গ হল চোখ। চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া তাই বিশেষভাবে দরকার।

কর্মব্যস্ত দিনে চোখে বেশি চাপ পড়ে। কারণ, কখনো কম্পিউটারের সামনে, কখনো টেলিভিশনের সামনে বা কখনো মনোযোগ দিয়ে কিছু পড়া হয়। এর মধ্যে চোখের বিশ্রামের কথা ভাবার অবকাশ হয় না। এ ছাড়া চোখ সাজানোর জন্য কত কিছুই তো করা হয়। কিন্তু বাড়ি ফিরে ভালোভাবে চোখ কি পরিষ্কার করা হয়?

চোখে সামান্য অসুবিধা হলেই সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ আপনার অযত্নেই হারিয়ে যেতে পারে আপনার দৃষ্টিশক্তি।

এমন কিছু কিছু লক্ষ্মণ আছে, যা বুঝিয়ে দেবে আপনার চোখ ক্লান্ত কি না-

লাল হয়ে যাওয়া- আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ কোনও কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। তখন লাল হয়ে যায় চোখ। জ্বালা জ্বালা করে।

চোখ দিয়ে জল পড়া- অনেকসময় চোখ দিয়ে জলও পড়তে পারে। তাহলে বুঝবেন আপনার চোখ ক্লান্ত। তার বিশ্রাম প্রয়োজন।

চোখে যন্ত্রণা- চোখের অতিরিক্ত পরিশ্রম হলে, ঠিকমত ঘুম না হলে, চোখে যন্ত্রণা হয়।

ডবল ভিশন বা চোখে ঘোলা দেখা- আপনি যদি সবকিছুই ঘোলা ঘোলা দেখেন, তাহলে অবিলম্বে সাবধান হোন।
চোখ অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে এমনটা হয়।

বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে প্রতিদিন যত্ন নিলে ছোট সমস্যাগুলো এড়ানো যায়। অফিসে বা বাড়িতে বসেই এ যত্ন নিতে পারেন।

চোখের উপযোগী ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত। মাথা সোজা রেখে চোখ হাতের ডান থেকে বাঁয়ে ও বাঁ থেকে ডানে ১০ বার ঘোরাতে হবে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন করা যেতে পারে। রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করুন। আর সানগ্লাস পরতে ভুলবেন না। সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। চোখের ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতির সবুজ রঙের জুড়ি নেই। একটু সময় পেলে সবুজে ঘেরা কোথা থেকে ঘুরে আসুন। মনও ভালো থাকবে, চোখও আরাম পাবে।

গরমে চোখের সঠিক যত্নে করণীয়

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে চোখের যত্ন নেয়া জরুরী। কারণ, সূর্যের রশ্মি চোখের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এর ফলে ত্বকের ক্ষতি হবার পাশাপাশি চোখেরও বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। তাই, চোখের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। চোখের যত্ন নিতে যে সকল উপায় অবলম্বন করবেন-

সান গ্লাস সবসময় সাথেই রাখুন:
সানস্ক্রিন ক্রিম যেমন ত্বককে রক্ষা করে তেমনি সান গ্লাস চোখকে রক্ষা করে।যেসব সান গ্লাস সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মিকে মোকাবেলা করতে পারে, সে সকল সান গ্লাস পরিধান করুন।সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি রেটিনার ক্ষতি করে, চোখে ছানি পরে এবং চোখের আরও বিভিন্ন ধরণের সমস্যা করে। গ্রীষ্মের জন্য ফ্রেমে বন্দী যে বড় সানগ্লাস আছে তা ব্যবহার করা ভাল। এটি সূর্যের আলো ও ধূলিকণা হতে চোখকে রক্ষা করে। এই গরমে আপনি যদি কোন পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণে যান। তাহলে সূর্যের প্রখর তাপে আপনার চোখে লাল ভাব বিরাজ করতে পারে এবং আপনার কর্নিয়াতেও সমস্যা হতে পারে। এর ফলে মাথা ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। তাই, সঠিকভাবে সানগ্লাস ব্যবহার করে চোখকে এ সকল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করুন।

সুইমিং পুলে চোখের সুরক্ষা:
গ্রীষ্মের সময়ে অনেকেই সুইমিং পুলে সময় কাটতে পছন্দ করেন। কিন্তু, এ সময় অবশ্যই আপনার গগলস ব্যবহার করুন। গ্রীষ্মে চামড়ার সংক্রমণের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সকলেই সুইমিং পুলের পানি বিশুদ্ধ রাখার জন্য ক্লোরিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এ সকল রাসায়নিক পদার্থ চোখের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই, পুলে অবশ্যই গগলস এর ব্যবহার করুন। পুল থেকে বের হয়ে ফ্রেশ পানি দিয়ে অবশ্যই চোখ ধুয়ে ফেলুন।

লুব্রিকেটিং চোখের ড্রপ:
গ্রীষ্মকালে শুধু আপনার ত্বকই নয়, সাথে সাথে চোখও শুকিয়ে যায়।বছরের এই সময়ে লুব্রিকেটিং চোখের ড্রপ ব্যবহার করা শ্রেয়। ড্রপটি অবশ্যই ঘরে সংরক্ষন করতে হবে।

এসি বরাবর বসবেন না:
আপনি যখন কোন এসি রুমে থাকবেন, তখন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার চোখে যেন এসির বাতাস সরাসরি না লাগে। এর ফলে চোখের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং চোখের পানি শুকিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিরক্ষামূলক স্পষ্ট চশমা পড়েন:
গ্রীষ্মের ছুটিতে বহিরঙ্গন কার্যক্রম এর অভাব থাকে না। তাই, আপনি যদি কোন ক্যাম্পিং এ যেয়ে সাইকেল চালান, রান্না করেন, অশ্ব চালনা ইত্যাদি করেন তাহলে অবশ্যই স্পষ্ট চশমা পড়ুন।

অরক্ষিতভাবে সূর্যের নিচে যাবার কারনে চোখের ছানি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ীভাবে চোখে লাল বা হলুদভাব হতে পারে। তাই, দিনের বেলা বের হবার সময় অবশ্যই সানগ্লাস পরিধান করুন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>