ভাল ঘুমের জন্য কিছু উপকারি খাবার জেনে নিন!

আজ আমি আপনাদের সাথে সেই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো যে সমস্যায় প্রায় অনেকে ভোগেন। বয়স ৩০ পার হলেই যেনো এই সমস্যাটা ঘিরে ধরে প্রায় মানুষকে। আর সেই সমস্যাটা হচ্ছে ঘুম। আপনি কি জানেন আপনার দৈনন্দিন খাদ্য অভ্যাসের উপর ঘুম নির্ভর করে অনেকটাই। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে অনেক সমস্যা হয়,বিশেষ করে আমাদের ব্রেন হ্যামারেজ হয়।

তাছাড়া গ্যাস্টিক,মাথা ব্যাথা,বদহজম সহ অনেক সমস্যা হয়। কিন্তু কিছু খাবার আছে যা আপনার সমস্যার সমাধান করে দেবে। দেখে নিন কি সেইগুলো:

চেরি: ঘুমের জন্য চেরি খুব উপকারি। ১ কাপ চেরির জুস এনে দেবে আপনার চোখে রাজ্যের ঘুম। শুতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস চেরির জুস খান। দেখুন কি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বেন আর রাতে বেশ ভাল ঘুম হবে।

ওটস: ওটস খুবই উপকারি চমৎকার একটি খাবার। এটি শুধু ঘুমের জন্য ভাল না সাথে সাাথে এটি আপনার ওজন কমাতে ও শরীরের চর্বি কমাতে অনেক ভাল কাজ করে। ওটসে আছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। রাতের খাদ্য হিসেবে ওটসের তৈরি খাবার বা ওটস বিস্কুট খান আর দেখুন চমৎকার কার্যফল।

দুধ: ব্যক্তিগত ভাবে পশুর দুধকে সামর্থন করছি না। আমি আমন্ডের দুধ বা সয়াদুধ। রাতে এক কাপ গরম দুধ খেলে বা দুধের তৈরি কোন কিছু খেলে খুব ভাল ঘুম হবে।

আমন্ড: আমন্ড খেলে আপনার ঘুমের কোন সমস্যা হবে না কথা দিচ্ছি। আপনি শুধু আমন্ড খেতে অথবা খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। তাছাড়া রোজ সকালে পাউরুটি বা রুটির সাথে আমন্ড বাটার মাখিয়েও খেতে পারেন।

কলা: কলায় আছে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেশিয়াম। ম্যাগনেশিয়াম ঘুমের জন্য খুব প্রয়োজনিয় ভিটামিন। রোজ রাতে কলা খান দেখুন কি দারুন ফল পাচ্ছেন। অথবা ওটসের সাথে মিশিয়ে খান,এতে বেশি ভাল পাবেন।

পাউরুটি: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনো ভুল খাবার খাবেন না। সেটা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। পাউরুটির সাথে চীজ লাগিয়ে খান,এবার ঘুমাতে যান।দেখুন চমৎকার।

তরমুজ: গরমের সময় এটি সব থেকে ভাল খারাপ পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য। এতে খুবই কম পরিমানে ক্যালোরি আছে ও অনেক বেশি পটাসিয়াম আছে। এটি হৃদয় সুস্থ রাখতেও অনেক উপকারি।এটি মস্তিষ্ককে চিন্তা মুক্ত করে ও ভাল ঘুম হয়।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়।

সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম।

বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

এসব উপাদান আপনার সুস্থতায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নেয়া যাকঃ

মুলার হজমকারী ক্ষমতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পাইলস রোগে আরাম হয়। পাইলসের কারণে রক্ত পড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়। মুলা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। লিভার এবং পাকস্থলীর সমস্ত দুষণ এবং বর্জ্য পরিস্কার করে থাকে। মুলা কিডনি রোগসহ মূত্রনালির অন্যান্য রোগে উপকারী। কাঁচা মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হজম হয় দ্রুত এবং রুচি বাড়ে। কচি মুলার সালাদ ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। জ্বরে ভুগলে বা মুখের রুচি নষ্ট হয়ে গেলে মুলা কুচি করে কেটে চিবিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জ্বর কমবে, মুখের রুচিও বাড়বে। পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা হলে মুলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন। শ্বেত রোগের চিকিৎসায় মুলা দারুণ উপকারী। এন্টি কারসেনোজিনিক উপাদান সমৃদ্ধ মুলার বীজ আদার রস এবং ভিনেগার একসঙ্গে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। কাঁচা মুলা চিবিয়ে খেলেও কাজ দেবে। ত্বক পরিচর্যায়ও মুলা ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা মুলার পাতলা টুকরা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ব্রণ নিরাময় হয়। এছাড়া কাঁচা মুলা প্যাক এবং ক্লিনজার হিসেবেও দারুন উপকারী নিয়মিত মুলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাবে।

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>